মোঃ রাইসুল ইসলাম রাজু, দর্শনা চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামপুর গ্রামের কোলঘেঁষে প্রবাহিত মাথাভাঙ্গা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নদীতীরের মাটি। কোথাও বসতবাড়ি, কোথাও গ্রামীণ সড়ক ভাঙনের মুখে পড়ে পুরো এলাকা এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেই ভাঙনের তীব্রতা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। নদীর পাড়ের অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় দিন পার করছেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে নদীর ভাঙন বসতঘরের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সড়কের বিভিন্ন অংশও।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ বা ব্লক স্থাপনের আবেদন জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছি। কখন ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়, সেই ভয়েই থাকতে হচ্ছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো শ্যামপুর গ্রাম ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়বে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় জিওব্যাগ বা ব্লক ফেলা এবং স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তা না হলে বর্ষার সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
উল্লেখ্য, মাথাভাঙ্গা নদী চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্ত নদী। অতীতেও নদীটির নাব্যতা, দূষণ ও তীরভাঙন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করে জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হোক, যাতে শ্যামপুর গ্রামের মানুষ তাদের বসতভিটা ও জীবিকা রক্ষা করতে পারেন।